Hi there! I'm Raj Rumel

Web & Graphics Designer

গল্পঃ সন্তুষ্টি


আত্মতৃপ্তি ও সুখ পাওয়ার জন্য প্রচুর সম্পদ বা ক্ষমতার প্রয়োজন হয়না, অসহায়কে সহায়তা প্রদানেই প্রকৃত সুখ। রিয়া আমার জীবনে না আসলে, সেই সুখের অনুভূতিটা পেতাম না। রিয়া আমাকে রুমেল দা বলে ডাকত। এতে আমার খুব রাগ হতো কিন্তু রাগ করতাম না। কারণ আমি রাগ করলে রিয়া উলটা রাগ করতো, আর সেই রাগ আমাকেই ভাঙতে হতো। রিয়া খুব অভিমানী এবং ভাবনা ময়ী মেয়ে ভাবনাতেই ডুবে থাকে সর্বক্ষণ। তার ভাবনা কিন্তু সবার থেকেই ভিন্ন। নিজের স্বার্থচিন্তা না করে, অন্যের দুঃখ-বেদনাকে উপলব্ধি করাই তার ভাবনা। অন্যের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নেওয়া যায় কিভাবে সেইসব নিয়ে চিন্তাজগতে ডুবে থাকে সে। কিন্তু আমার সাথে তার ব্যবহার এই সব কিছুর ব্যতিক্রম, যখনি আলাপ হয় কোন না কোন কাজ দিতেই থাকে। আমিও করে দেই, তার কাজ করে দিতে আমার খুব ভালো লাগে। রিয়াকে আমি খুব বেশি ভালোবাসি, আর রিয়াও আমাকে। আমাদের ভালোবাসা টাও ভিন্ন, সব সময় ভালো কাজের উপদেশ একজন আরেকজন কে দিতাম।

একদিন রিয়া আমাকে একটি বার্তা তে বলে।

রুমেলঃ রমজান মোবারক।

রিয়াঃ আপনাকেও, কেমন আছেন।

রুমেলঃ হুম! আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি?

রিয়াঃ আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি।

রুমেলঃ আজ কোন কাজের কথা বলবেন না? আপনি তো আমার জন্য কাজেরকাজি।

রিয়াঃ হুম! কাজ তো আছেই, করতে পারবেন? অসহায় পরিবারে ইফতার সামগ্রী এবং মাদ্রাসায় ইফতার বিতরনে আপনি চাইলে আমাদের সাথে সহযোগীতা করতে পারেন। আপনি কি আমাদের সাথে সহযোগীতা করবেন?

রুমেলঃ হুম, আমি করতে চাই, এই রকম মহৎ কাজ করে অনেক তৃপ্তি পাবো।

রিয়ার কথামতো আমি তাদের সাথে সংযুক্ত হই, এবং আমি আমার সাধ্যমতো আর্থিক ভাবে সহযোগীতা করি, শুধু আমি নই আরো যারা আছে সবাই সবার সাধ্যমতো সহযোগীতা করে রিয়ার পাশে থাকে। রিয়া আমাদের কয়েক জনকে কয়েক জেলা থেকে নিযুক্ত করেছিলো আমিও তাদের সাথে যুক্ত হয়ে সিলেট জেলার হাল টা ধরলাম। রিয়া আমাকে বলে আপনি সিলেট থেকে কয়েকটি অসহায় পরিবার খুঁজেন। তাদের মধ্যে আমরা ইফতার বিতরণ করবো। আমি আমার বন্ধু এবাদকে সাথে নিয়ে রিয়ার কথা মতো পরিবার খুজলাম, আমি আর এবাদ তিনটি পরিবার নিযুক্ত করলাম যাদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা দুঃখ-কষ্ট, অভাববোধ রয়েছে। একটি পরিবারে এক মহিলার স্বামী নেই ঠিক একবছর আগে রমজান মাসে তার স্বামী মারা গেছেন। আরেকটি পরিবার স্বামী কোন কাজ কর্ম করতে পারেনা, আধমরা স্বামী কে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতেছেন। আরো একটি পরিবার সেই পরিবারেও একি অবস্থা স্বামী আধমরা। তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাববোধ দেখে নিজের খুব খারাপ লাগলো।

কিছুদিন পর,,,,,,

রিয়াঃ সিলেট থেকে কয়টি পরিবার নিযুক্ত করলেন?

রুমেলঃ আমি তিনটি পরিবার নিযুক্ত করেছি।

রিয়াঃ তিন পরিবারের ইফতার সামগ্রী (ছোলা, মুড়ি, চিনি, ট্যাং, খেজুর, মালটা) এর দাম দোকানে গিয়ে জেনে আমাকে আজ রাত্রের মধ্যেই জানাবেন।

রুমেলঃ আচ্ছা।

এইসকল সামগ্রী এর মূল্য জানার জন্য আমি আমার বন্ধু এবাদ এর সহযোগীতা নেই। এবং রিয়াকে বলি তিন পরিবারের মোট হিসাব, তারপর রিয়া আমাকে তিন পরিবারের হিসাব অনুযায়ী অর্থ দিলো।

রিয়াঃ পরেরদিন সব কিনে প্রত্যেক পরিবারে বিতরন করবেন।

রুমেলঃ আচ্ছা।

পরেরদিন আমি এবাদুরকে সাথে নিয়ে সকল সামগ্রী কিনে, প্রত্যেক অসহায় পরিবারের মধ্য তা বিতরণ করি। অসহায় পরিবার গুলো এই সকল সামগ্রী গুলো পেয়েই সন্তুষ্ট। তাদের সন্তুষ্টি তাদের আনন্দ দেখে নিজের অনেক ভালো লেগেছে। আমি প্রত্যেকেরই দুঃখ-কষ্ট, অভাববোধ তখন উপলব্ধি করছিলাম। মনে হচ্ছিলো তাদের মুখের হাসিতেই প্রকৃত সুখ।

বিতরণ শেষে রিয়াকে বার্তাতে বলি,

রুমেলঃ ধন্যবাদ! আজ যা উপলব্ধি করেছি তা কখনো ভুলবো না।

রিয়াঃ কষ্ট করলেন খুব। কেমন লাগল কষ্ট গুলো?

রুমেলঃ কষ্ট নয়। আজ অন্যের মধ্যে বিলীন করার সন্তুষ্টি আমি উপলব্ধি করলাম, আর সেই উপলব্ধির সুযোগ টা আপনার থেকে পাওয়া, ধন্যবাদ আপনাকে।

রিয়াঃ কাউকে উপকার করতে পারাটা জীবনের সেরা সন্তুষ্টি। মানুষ তো মানুষের জন্য। ধন্যবাদ দিতে নেই।

রুমেলঃ হুম।

রিয়াঃ আপনি পাশে ছিলেন বলেই আজ সিলেটে বিতরণটা সম্ভব হইছে।

রুমেলঃ হুম। তোমাকে ভালোবাসি বলে আজ একটি মহৎ কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

এটি গল্প নয় এটি আমার জীবনের বাস্তব অবিজ্ঞতা। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বাস করে আর তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা দুঃখ-কষ্ট, অভাববোধ আছে। তবে সে দুঃখ-কষ্টগুলো একান্তই ব্যক্তিগত। আর কেবলমাত্র ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের চিন্তা করা কোনো মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। কেননা শুধুমাত্র নিজের ভোগ-বিলাস আর স্বার্থরক্ষার জন্য মানবজীবন নয়। মানুষ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল হয়ে সমাজবদ্ধভাবে বাস করে। এই সমাজবদ্ধ জীবনে স্বার্থপরের মতো শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ভাবা উচিত নয়। বরং চারপাশের সমস্ত দুঃখী, অভাবী মানুষের দুঃখকে উপলব্ধি করতে হবে। অন্যের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। অন্যের দুঃখ-কষ্টকে নিজের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করতে পারলে নিজের দুঃখগুলো ভুলে থাকা যায়। যে ব্যক্তির পা নেই তার কথা চিন্তা করলে নিজের জুতা না থাকার অভাব বা কষ্ট নিতান্তই নগন্য মনে হয়। মহৎপ্রাণ ব্যক্তিগণ নিজেদের দুঃখ, বেদনা, হতাশা, ব্যর্থতাকে ভুলে অপরের কল্যাণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। অপরের কল্যাণে নিজেদের স্বার্থ চিন্তা পরিহার করেছেন বলেই তাদের জীবন হয়েছে মহান। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে তাদের মহৎ ত্যাগের কথা। মানুষ কেবল নিজের জন্য জন্মগ্রহণ করেনি। শুধুমাত্র নিজের ভোগবিলাস, পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে ব্যস্ত থাকলে সেই মানুষ কোনোদিনও জীবনের প্রকৃত সুখের সন্ধান পায় না। অন্যদিকে, নিজের দুঃখ-কষ্টকে বড় করে না দেখে যে ব্যক্তি অন্যের দুঃখ- বেদনাকে উপলব্ধি করতে পারে এবং সে দুঃখ লাঘবে সহায়তা করে সেই প্রকৃত সুখী। যে সত্যিকারের মানুষ সে অপরের দুঃখে ব্যথিত হয় এবং অন্যের দুঃখ দূর করতে নিজের সুখ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করে না। অপরের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করে সে নিজেদের দুঃখের কথা ভুলে যায়। জীবনের সত্যিকার সুখের দেখা পায় সে, যে অপরের দুঃখ-বেদনার কথা ভেবে ব্যক্তিগত দুঃখকে মনে স্থান দেয় না। শিক্ষা: স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে এই মহৎ জীবনকে সার্থক করতে হলে, কেবল নিজের স্বার্থচিন্তা না করে, অন্যের দুঃখ-বেদনাকে উপলব্ধি করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, অপরের দুঃখ-বেদনা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই মানব জীবনের সত্যিকারের সুখ নিহিত।
Reactions:

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget